Menue side bar

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৩

মানুষ যেভাবে তার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে- ২

৯.আনন্দ-ফুর্তি-উল্লাস : জীবন চলার পথে প্রয়োজন কিছু আনন্দ-ফুর্তি, আনন্দ-উল্লাস। এই আনন্দ-ফুর্তি উল্লাসের অনুভূতি প্রকাশ করতে মানুষ স্থান নেয় বিশেষ কোন আড্ডায়, অনুষ্ঠান ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পথ চলতে চলতে। আনন্দ ঝরা মুহুর্তে মানুষের অনুভূতি প্রকাশ ঘটে প্রফুল্ল হাসি, ফুরফুরে মেজাজ,প্রশান্তির চিত্ত উল্লাস এবং তেইরে-নেইরে ছুটে চলা, হৈরোহৈরিতে বিশেষ মুহুর্তগুলো অনুভূতির প্রকাশ হয়ে উঠে অনন্য আনন্দপূর্ণ।
 
-->
১০. লেখালেখি : পৃথিবীতে অধিক সংখ্যক মানুষ তার অনুভূতি প্রকাশ করে লেখালেখির মধ্যে দিয়ে। মনের সঞ্চিত ঘটনাকে যারা লেখনির মাধ্যমে সাহিত্য ও সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করে তাদেরকে আমরা লেখক/কবি/সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক হিসেবে জানি। অপর দিকে যারা বধির ও বোবা তারা তাদের সাংকেতিক ভাষা ইশারা ছাড়াও লিখনির সাহায্যে অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে। তাছাড়া প্রেমিক-প্রেমিকরা মনের কথা লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। এদের মনের ভাষাগুলো এমন হতে পারে-তোমাকে/আপনাকে আমার খুব পছন্দ। কেউ দেয়ালে, পাথরে, গাছের পাতায়, ফুলে, চিত্রলিপি, মাটি ও টাকার বুকেও মনের কথাগুলো প্রকাশ করে বিভিন্ন ভাষাশৈলীতে।
-->
১১. সংগীত : সূরের অনুভূতি বিস্তৃত। তাই মানুষ তার ভিতর নানা আনন্দ-কষ্টের বিষয়গুলো গানের সূরে প্রকাশ করে থাকে। একেকটি গান যেন এক এক বিষয়ের কথা বলে। জীবনের কথা বলে,পরিবেশের কথা বলে আর নিজের জীবনের ঘটে যাওয়া আবেগগুলো কখনো গুনগুনিয়ে, কখনো উচ্চ স্বরে আবার কখনো নির্জনে বসে প্রকাশ ভঙিতে গাইতে থাকে।
১২. পোষ্টার : ছবি যেমন কথা বলে তেমনি পোষ্টারও কথা বলে। এই পোষ্টার ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক মানুষ। যারা নির্বাচনের জন্য ভোট কামনা করেন। তাদের ছবির সাথে কিছু পরিচিত বিবরণ উল্লেখ করে জনসম্মুখের নজর কাড়ার জন্য এখানে সেখানে বিভিন্ন দেয়ালে,গাছের সাথে লাগিয়ে রাখেন। পথচারি,সাধারণ মানুষের চোখ পড়ে সেই পোষ্টারের দিকে। এখানে কেউ পড়ে অনুভব করেন আবার কেউ পোষ্টার দেখে অনুভব করার চেষ্টা করেন, পোষ্টার কী অর্থ প্রকাশ করতে চাচ্ছে। এই শ্রেণীরা হতে পারেন, যারা এই পোষ্টার পড় অক্ষম এবং ভাষা বুঝেন না।
১৩. সামান্য সহযোগিতা : জীবন চলতে প্রয়োজন হয় পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা। পথ চলতে চলতে হঠাৎ কিছু দূর্ঘটনা ঘটে যায়। সেই সময় কেউ হয়তো এগিয়ে আসে সহযোগিতার উদ্দ্যেশে। বাড়িয়ে দেয় সহযোগিতার হাত। হতে পারে অচেনা কেউ আপনার কাছে কলম ,লেখার কাগজ, কিছু টাকা চেয়ে বসলো। আপনি সেটা দিলেন অথবা আপনাকে সে দিল। অপরদিকে বাসে চড়ে সিটের অভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনাকে দেখে কেউ মায়া বা ভাললাগা যেটাই হোক না কেন আপনাকে বসার সিটের ব্যবস্থা করে দিলেন। ঠিক জীবন চলার পথে বহু এরকম টুকিটাকি সহযোগিতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠে সম্পর্ক। আদান-প্রদান হয় মনের ভাব। সেই ভাবের অনুভূতিকে প্রকাশ করা হয় এইসব ক্ষেত্রে।  
১৪. ঘৃণা ও তিক্ততা : মানুষ যখন কোন বিষয়ের প্রতি অপছন্দীয় হয়ে উঠে, বিরক্তিভাবের উৎপত্তি ঘটে। ঠিক তখনি মানুষ সেটা ঘৃণা বা নিন্দার মাধ্যমে তার অনুভূতিকে প্রকাশ করে। এই তিক্ততা ও ঘৃণার নির্যাস ঝরতে পারে তার অশালীন ভাষা ব্যবহারে, উগ্র মেজাজ এবং চোখের দৃষ্টির মধ্য দিয়ে।
 
-->
১৫. প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও বিদ্রোহী ভাব : মানুষ যখন কোন বিষয়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কোন ইস্যু নিয়ে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রের কাছে লড়াই করে; তখন সে তার ভিতরকার প্রতিবাদের দ্রোহকে প্রকাশ ঘটাতে অবলম্বন করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। চলমান সময়ের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, রাজপথে হরতাল,অবরোধ,মিছিল-মিটিং পূর্বক তারা ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেয়। প্রতিবাদের ভাষা তীর্যক ও দ্রোহের স্ফুলিঙ্গ ঘটে। চলমান রাজনীতির প্লাটফর্মে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীর বিচারে চারুকলার শৈল্পিকে চিত্রিত হচ্ছে নানা প্রতিবাদের ভাষা। যেমন-যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই করতে হবে। অপরদিকে হেফাজতের ইসলামের কথিত নাস্তিক ব্লগার ও মুহম্মদ (সা.)সহ কুরআনের অবমাননার জন্য তাদের চিত্রিত প্রতিবাদের ভাষা দেখা গেছে। এদের প্রতিবাদের ভাষা নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি চাই। তদ্রুপ বিশ্বেও এরকমই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও অনশন, বিক্ষোভ সমাবেশ, মঞ্চে উত্তপ্ত ভাষণে ফুটে উঠে তীব্র প্রতিবাদের প্রখর অনুভূতি। এমনকি এই অনুভূতি প্রকাশে কেউ কেউ জুতা,পাথর,ইট পর্যন্ত নিক্ষেপ পর্যন্ত করে থাকেন।



শনিবার, ১১ মে, ২০১৩

     পৃথিবীতে কয়েক শ্রেণীর চোর আছে :

     পৃথিবীর বুকে মানুষই একমাত্র অদ্ভূত প্রাণী। যে সৃষ্টিকর্তা ব্যতিত সব কিছুই করতে পারে। তাকে চেনা যায়;   
     আবার তাকে চেনা যায় না। বড় অদ্ভূত সে! তার এই অদ্ভূত কিছু তুলে ধরতে এবারের এ আয়োজন-

১. সৌখিন চোর : মানুষই সৌখিন কিছু তৈরি করে। আবার আরেকজন মানুষই সেটার প্রতি লোভ করে সেটা চুরি করে। বেশির ভাগ ঘটে এটা বন্ধুত্ব ও পরিবারের আত্মীয়ের মধ্যে। অপরিচিতজনদের কাছ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেলেও নিকটস্থের কাছে সেটা যদি একটু বিপরীত ঘটে তাহলে রক্ষা নেই। তেমনি টেবিলে সাজানো ছিল সৌখিন মোমের পুতুলটা। নিকটস্ত একজন বেড়াতে আসার পরের দিন সেটা আর নেই। ঘরের পাশেই ছিল কালো কিংবা নীল গোলাপের গাছটা। সেখানে কিছু ফুল ফুটে ছিল। মাধুর্য্যের মা সেটা অনেক সখ করে সংগ্রহ করে লাগিয়েছিল গোলাপের চারাগুলো। বাসায় একদিন ভাড়াটিয়ার মেহমান এসে নিয়ে গেল সেটা। যদিও ফুলগুলো ছিঁড়তে একটা মানা ছিল-ফুল ছিঁড়বেন না কিন্তু কে শুনে কার কথা! ফুলগুলো যে খুব পছন্দ হয়েছে। যেভাবেই হোক সেটা চাই চাই; এই পরিকল্পনা খেলতে থাকে সৌখিন চোরদের বেলায়।
২. খাবার চোর : পৃথিবীতে মানুষ যখন চরম ক্ষুধার্তের মধ্যে সময় যাপন করে, তখন তার হিতাহিত বোধ থাকে না। খাদ্যের খুজে ছুটে বেড়ায় পাগলের মতো। পেটের ক্ষুধাকে নিবারন করতেই সে খাবার চুরি করে।

৩. সম্পত্তি চোর : পৃথিবীতে সবচেয়ে নিমক হারামির কাজ করে এই শ্রেণীর চোর। তাও আবার নিজের কাছের লোক।ভাই, চাচা,মামা এই শ্রেণীর মানুষরাই বেশি হয়। সম্পত্তি চুরির মধ্যে জমি, জমির দলিলাদি এবং গৃহের পালিত পশু। পৃথিবীতে যে কয়টি জিনিষের প্রতি মানুষের বেশি লোভ সেগুলোর মধ্যে জমিন একটি। এর অর্থ। কেউ কাউকে ভাল থাকতে দেখতে পারে না এই শ্রেণীর মানুষরাই সম্পত্তি চুরি করে থাকে নানা কৌশল অবলম্বন করে।

শুক্রবার, ১০ মে, ২০১৩

মানুষ যেভাবে তার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে :
পৃথিবীতে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন সম্পর্ক গড়ে তুলে। সেই সম্পর্ক হতে পারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন,রক্তের মধ্যে ও বাইরে এবং বন্ধু-বান্ধবের ভিতর। এই সম্পর্কের ভিতর মানুষ তার মনের অনুভূতিটাকে প্রকাশ করে ক্ষেত্র বিশেষে। পারিবারিক যেমন এক, গৃহস্থালীতে আরেক এবং বাইরে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আরেক। ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি। আসুন জেনে নিই মানুষ তার অনুভূতিগুলোকে কোন কোন ক্ষেত্রে কোন ভঙিমায় প্রকাশ করে।

১.উপহার : অনুভূতির প্রকাশের ধরণ দেখেই বলা যায়, অনুভূতি প্রকাশকারী ব্যক্তি হিসেবে কি রকম, কেমন তার রুচিবোধ ও পছন্দ। উপহারের মাধ্যমেই জানা যায় অনুভূতির মানদন্ড। বড় অথবা ছোট হোক, সেটা নির্ভর করে রুচিবোধ আর পছন্দের ভিতর। এই উপহারগুলো হতে পারে পারিবারিক অনুস্ঠান, পরীক্ষার্থী, বিয়ে-বাড়ি, জন্মদিন এবং ভালোবাসার মানুষদের মধ্যে। উপহার দিয়ে প্রকাশ ঘটানো হয় মনের সুপ্ত আবেগ-ভাললাগাকে।
২. চিঠি বা এসএমএস: এই তথ্যপ্রযুক্তি যুগে হয়তো মানুষ যন্ত্রমানব হওয়ায় চিঠি না লিখে মুঠোফোনের খুদে বার্তাকেই বেশি প্রাধাণ্য দেয়। এসএমএস করেই জানিয়ে দেয় মনের অনুভূতিকে। বেশিরভাগ এটা ঘটে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে। যারা নতুন প্রেমের অনুসন্ধানী তারা অপেক্ষা করতে থাকেন, কোন নতুন নাম্বারের জন্য। কাংখিত সেই ভাললাগার মানুষটির নাম্বারটি পেলেই প্রথম বাকশক্তিকে প্রকাশ না ঘটিয়ে ম্যাসেজ এর মাধ্যমে জানান মনের কথাটুকু। এই প্রযুক্তি আসার আগে মানুষ কাগজের পর কাগজ শেষ করতেন কলমের কালিতে মনের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে।
৩. কবিতা : অনুভূতি অনন্য প্রকাশ মাধ্যম যেন কবিতা। ভাললাগা, প্রেম-ভালবাসা, দু:খ-কষ্ট, বেদনা, নীল কষ্ট নানা রূপক শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত অনুভূতিগুলো প্রকাশ হয় এই কবিতায়। একজন কবি হওয়ার প্রথম শর্ত তার তীব্র আবেগ- অনুভূতি। তার লেখাটেও সেটা প্রকাশ পায়।
৪. আকার ইংগিত : আকার-ইংগিতে অনুভূতি প্রকাশ করে সাধারণত বধির ও বোবা শ্রেণীর মানুষরা। তাদের অনুভূতি বুঝাতে আকার-ইংগিতই মুখ্যম হাতিয়ার।
৬. ইমেজ বা ছবি : ছবিও যেন ভাবের অপূর্ব প্রকাশ। কথায় বলে ছবিও কথা বলে। সেই ছবিকে ভিন্ন ভিন্ন আমেজে মানুষ তার অনুভূতিকে প্রকাশ করে। ভালবাসার জন্য ‌লাভ ইমেজ, বন্ধুর্ত্বের জন্য দুহাতের বন্ধন, প্রেমের জন্য মিলন, কষ্টের জন্য কষ্টের প্রতীক, পরিচিতির জন্য প্রচার ছবি,ব্যানার,ফেস্টুন, সাইনবোর্ড এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রের জন্য বিভিন্ন রোগের প্রতীক হিসেবে ইমেজ বা ছবি ব্যবহার করে অনুভূতি প্রকাশ করা হয়।
৭. রিংটোন : এই প্রযুক্তির যুগে যান্ত্রিকতার ব্যবহার করে টোন বা স্বর হর্ষধ্বনি ব্যবহার করে অনুভূতি প্রকাশ করে। আজকাল সার্বক্ষণিক মোবাইলের রিংটোনের ব্যবহারটা বিস্তার লাভ করায় একেক জনের মোবাইলে বিভিন্ন রকম রিংটোন শোনা যায়। বিভিন্ন মিউজিকের গান, বাজনায় ব্যবহার হচ্ছে এই রিংটোন। গানের কলি, সূরের মোহ ইন্দ্রজাল ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করে। এ থেকে বুঝা যায়, একেক জনের রুচি-বোধ ও সময়ের পথ চলার রিংটোন ব্যবহারে ফুটে উঠে তার ভিতরকার বিষয়াদি, সে তার সময়কে কোন অর্থে প্রকাশ করতে চাইছে। অপরদিকে এই রিংটোন সেট করা হচ্ছে অনেক যানবাহনে। যেমন-সেদিন শোনা গেল সোয়ান নামের যুবকের মোটর সাইকেল চালিয়ে এক মেয়ের পিছনে যাচ্ছিল। সেসময় সে একটা রিংটোন বাজাচ্ছিল-এই মেয়ে একটু দাঁড়াও....। এতে স্পষ্ট যে, রিংটোন দিয়েই মানুষ তার ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে।


৮. দৃষ্টি বা ইশারা : মানুষের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো তার দুটি চোখ। চোখ নাকি মনের কথা বলে। মনের লুকানো অনুভূতি প্রকাশ করে। চোখের ভাষা এমনই হৃদয় ব্যাঞ্জনা দেয়। চোখের দৃষ্টির ভিতর খেলা করে অনুভূতির রঙ। চোখের দৃষ্টিতেই কেউ জানিয়ে দেয় ভাললাগার ভাব, মিলনের আহবান, শরীরের উষ্ণতা, রাগান্বিত ভাব, হত্যার নাশকতামূলক বিভিন্ন অনুভূতি। আবার পূরনো দিনের বন্ধুদের সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল স্মৃতির চোখের আয়নায় ধরা পড়ে পুরো জীবনের ইতিহাস।