Menue side bar

শুক্রবার, ১০ মে, ২০১৩

মানুষ যেভাবে তার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে :
পৃথিবীতে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন সম্পর্ক গড়ে তুলে। সেই সম্পর্ক হতে পারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন,রক্তের মধ্যে ও বাইরে এবং বন্ধু-বান্ধবের ভিতর। এই সম্পর্কের ভিতর মানুষ তার মনের অনুভূতিটাকে প্রকাশ করে ক্ষেত্র বিশেষে। পারিবারিক যেমন এক, গৃহস্থালীতে আরেক এবং বাইরে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আরেক। ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি। আসুন জেনে নিই মানুষ তার অনুভূতিগুলোকে কোন কোন ক্ষেত্রে কোন ভঙিমায় প্রকাশ করে।

১.উপহার : অনুভূতির প্রকাশের ধরণ দেখেই বলা যায়, অনুভূতি প্রকাশকারী ব্যক্তি হিসেবে কি রকম, কেমন তার রুচিবোধ ও পছন্দ। উপহারের মাধ্যমেই জানা যায় অনুভূতির মানদন্ড। বড় অথবা ছোট হোক, সেটা নির্ভর করে রুচিবোধ আর পছন্দের ভিতর। এই উপহারগুলো হতে পারে পারিবারিক অনুস্ঠান, পরীক্ষার্থী, বিয়ে-বাড়ি, জন্মদিন এবং ভালোবাসার মানুষদের মধ্যে। উপহার দিয়ে প্রকাশ ঘটানো হয় মনের সুপ্ত আবেগ-ভাললাগাকে।
২. চিঠি বা এসএমএস: এই তথ্যপ্রযুক্তি যুগে হয়তো মানুষ যন্ত্রমানব হওয়ায় চিঠি না লিখে মুঠোফোনের খুদে বার্তাকেই বেশি প্রাধাণ্য দেয়। এসএমএস করেই জানিয়ে দেয় মনের অনুভূতিকে। বেশিরভাগ এটা ঘটে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে। যারা নতুন প্রেমের অনুসন্ধানী তারা অপেক্ষা করতে থাকেন, কোন নতুন নাম্বারের জন্য। কাংখিত সেই ভাললাগার মানুষটির নাম্বারটি পেলেই প্রথম বাকশক্তিকে প্রকাশ না ঘটিয়ে ম্যাসেজ এর মাধ্যমে জানান মনের কথাটুকু। এই প্রযুক্তি আসার আগে মানুষ কাগজের পর কাগজ শেষ করতেন কলমের কালিতে মনের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে।
৩. কবিতা : অনুভূতি অনন্য প্রকাশ মাধ্যম যেন কবিতা। ভাললাগা, প্রেম-ভালবাসা, দু:খ-কষ্ট, বেদনা, নীল কষ্ট নানা রূপক শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত অনুভূতিগুলো প্রকাশ হয় এই কবিতায়। একজন কবি হওয়ার প্রথম শর্ত তার তীব্র আবেগ- অনুভূতি। তার লেখাটেও সেটা প্রকাশ পায়।
৪. আকার ইংগিত : আকার-ইংগিতে অনুভূতি প্রকাশ করে সাধারণত বধির ও বোবা শ্রেণীর মানুষরা। তাদের অনুভূতি বুঝাতে আকার-ইংগিতই মুখ্যম হাতিয়ার।
৬. ইমেজ বা ছবি : ছবিও যেন ভাবের অপূর্ব প্রকাশ। কথায় বলে ছবিও কথা বলে। সেই ছবিকে ভিন্ন ভিন্ন আমেজে মানুষ তার অনুভূতিকে প্রকাশ করে। ভালবাসার জন্য ‌লাভ ইমেজ, বন্ধুর্ত্বের জন্য দুহাতের বন্ধন, প্রেমের জন্য মিলন, কষ্টের জন্য কষ্টের প্রতীক, পরিচিতির জন্য প্রচার ছবি,ব্যানার,ফেস্টুন, সাইনবোর্ড এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রের জন্য বিভিন্ন রোগের প্রতীক হিসেবে ইমেজ বা ছবি ব্যবহার করে অনুভূতি প্রকাশ করা হয়।
৭. রিংটোন : এই প্রযুক্তির যুগে যান্ত্রিকতার ব্যবহার করে টোন বা স্বর হর্ষধ্বনি ব্যবহার করে অনুভূতি প্রকাশ করে। আজকাল সার্বক্ষণিক মোবাইলের রিংটোনের ব্যবহারটা বিস্তার লাভ করায় একেক জনের মোবাইলে বিভিন্ন রকম রিংটোন শোনা যায়। বিভিন্ন মিউজিকের গান, বাজনায় ব্যবহার হচ্ছে এই রিংটোন। গানের কলি, সূরের মোহ ইন্দ্রজাল ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করে। এ থেকে বুঝা যায়, একেক জনের রুচি-বোধ ও সময়ের পথ চলার রিংটোন ব্যবহারে ফুটে উঠে তার ভিতরকার বিষয়াদি, সে তার সময়কে কোন অর্থে প্রকাশ করতে চাইছে। অপরদিকে এই রিংটোন সেট করা হচ্ছে অনেক যানবাহনে। যেমন-সেদিন শোনা গেল সোয়ান নামের যুবকের মোটর সাইকেল চালিয়ে এক মেয়ের পিছনে যাচ্ছিল। সেসময় সে একটা রিংটোন বাজাচ্ছিল-এই মেয়ে একটু দাঁড়াও....। এতে স্পষ্ট যে, রিংটোন দিয়েই মানুষ তার ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে।


৮. দৃষ্টি বা ইশারা : মানুষের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো তার দুটি চোখ। চোখ নাকি মনের কথা বলে। মনের লুকানো অনুভূতি প্রকাশ করে। চোখের ভাষা এমনই হৃদয় ব্যাঞ্জনা দেয়। চোখের দৃষ্টির ভিতর খেলা করে অনুভূতির রঙ। চোখের দৃষ্টিতেই কেউ জানিয়ে দেয় ভাললাগার ভাব, মিলনের আহবান, শরীরের উষ্ণতা, রাগান্বিত ভাব, হত্যার নাশকতামূলক বিভিন্ন অনুভূতি। আবার পূরনো দিনের বন্ধুদের সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল স্মৃতির চোখের আয়নায় ধরা পড়ে পুরো জীবনের ইতিহাস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন