৯.আনন্দ-ফুর্তি-উল্লাস : জীবন চলার
পথে প্রয়োজন কিছু আনন্দ-ফুর্তি, আনন্দ-উল্লাস। এই আনন্দ-ফুর্তি উল্লাসের অনুভূতি
প্রকাশ করতে মানুষ স্থান নেয় বিশেষ কোন আড্ডায়, অনুষ্ঠান ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পথ
চলতে চলতে। আনন্দ ঝরা মুহুর্তে মানুষের অনুভূতি প্রকাশ ঘটে প্রফুল্ল হাসি, ফুরফুরে
মেজাজ,প্রশান্তির চিত্ত উল্লাস এবং তেইরে-নেইরে ছুটে চলা, হৈরোহৈরিতে বিশেষ
মুহুর্তগুলো অনুভূতির প্রকাশ হয়ে উঠে অনন্য আনন্দপূর্ণ।
১০. লেখালেখি : পৃথিবীতে অধিক সংখ্যক
মানুষ তার অনুভূতি প্রকাশ করে লেখালেখির মধ্যে দিয়ে। মনের সঞ্চিত ঘটনাকে যারা
লেখনির মাধ্যমে সাহিত্য ও সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করে তাদেরকে আমরা
লেখক/কবি/সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক হিসেবে জানি। অপর দিকে যারা বধির ও বোবা তারা
তাদের সাংকেতিক ভাষা ইশারা ছাড়াও লিখনির সাহায্যে অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে। তাছাড়া
প্রেমিক-প্রেমিকরা মনের কথা লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। এদের মনের ভাষাগুলো
এমন হতে পারে-তোমাকে/আপনাকে আমার খুব পছন্দ। কেউ দেয়ালে, পাথরে, গাছের পাতায়,
ফুলে, চিত্রলিপি, মাটি ও টাকার বুকেও মনের কথাগুলো প্রকাশ করে বিভিন্ন ভাষাশৈলীতে।
১১. সংগীত : সূরের অনুভূতি বিস্তৃত।
তাই মানুষ তার ভিতর নানা আনন্দ-কষ্টের বিষয়গুলো গানের সূরে প্রকাশ করে থাকে। একেকটি
গান যেন এক এক বিষয়ের কথা বলে। জীবনের কথা বলে,পরিবেশের কথা বলে আর নিজের জীবনের
ঘটে যাওয়া আবেগগুলো কখনো গুনগুনিয়ে, কখনো উচ্চ স্বরে আবার কখনো নির্জনে বসে প্রকাশ
ভঙিতে গাইতে থাকে।
১২. পোষ্টার : ছবি যেমন কথা বলে তেমনি
পোষ্টারও কথা বলে। এই পোষ্টার ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক মানুষ। যারা নির্বাচনের
জন্য ভোট কামনা করেন। তাদের ছবির সাথে কিছু পরিচিত বিবরণ উল্লেখ করে জনসম্মুখের
নজর কাড়ার জন্য এখানে সেখানে বিভিন্ন দেয়ালে,গাছের সাথে লাগিয়ে রাখেন।
পথচারি,সাধারণ মানুষের চোখ পড়ে সেই পোষ্টারের দিকে। এখানে কেউ পড়ে অনুভব করেন আবার
কেউ পোষ্টার দেখে অনুভব করার চেষ্টা করেন, পোষ্টার কী অর্থ প্রকাশ করতে চাচ্ছে। এই
শ্রেণীরা হতে পারেন, যারা এই পোষ্টার পড় অক্ষম এবং ভাষা বুঝেন না।
১৩. সামান্য সহযোগিতা : জীবন চলতে
প্রয়োজন হয় পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা। পথ চলতে চলতে হঠাৎ কিছু দূর্ঘটনা ঘটে যায়।
সেই সময় কেউ হয়তো এগিয়ে আসে সহযোগিতার উদ্দ্যেশে। বাড়িয়ে দেয় সহযোগিতার হাত। হতে
পারে অচেনা কেউ আপনার কাছে কলম ,লেখার কাগজ, কিছু টাকা চেয়ে বসলো। আপনি সেটা দিলেন
অথবা আপনাকে সে দিল। অপরদিকে বাসে চড়ে সিটের অভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনাকে দেখে কেউ
মায়া বা ভাললাগা যেটাই হোক না কেন আপনাকে বসার সিটের ব্যবস্থা করে দিলেন। ঠিক জীবন
চলার পথে বহু এরকম টুকিটাকি সহযোগিতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠে সম্পর্ক। আদান-প্রদান হয়
মনের ভাব। সেই ভাবের অনুভূতিকে প্রকাশ করা হয় এইসব ক্ষেত্রে।
১৪.
ঘৃণা ও তিক্ততা : মানুষ যখন কোন বিষয়ের প্রতি অপছন্দীয়
হয়ে উঠে, বিরক্তিভাবের উৎপত্তি ঘটে। ঠিক তখনি মানুষ সেটা ঘৃণা বা নিন্দার মাধ্যমে
তার অনুভূতিকে প্রকাশ করে। এই তিক্ততা ও ঘৃণার নির্যাস ঝরতে পারে তার অশালীন ভাষা
ব্যবহারে, উগ্র মেজাজ এবং চোখের দৃষ্টির মধ্য দিয়ে।
১৫. প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও বিদ্রোহী ভাব :
মানুষ যখন কোন বিষয়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কোন ইস্যু নিয়ে পারিবারিক, সামাজিক ও
রাষ্ট্রের কাছে লড়াই করে; তখন সে তার ভিতরকার প্রতিবাদের দ্রোহকে প্রকাশ ঘটাতে
অবলম্বন করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। চলমান সময়ের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়,
রাজপথে হরতাল,অবরোধ,মিছিল-মিটিং পূর্বক তারা ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেয়। প্রতিবাদের
ভাষা তীর্যক ও দ্রোহের স্ফুলিঙ্গ ঘটে। চলমান রাজনীতির প্লাটফর্মে বাংলাদেশের
যুদ্ধাপরাধীর বিচারে চারুকলার শৈল্পিকে চিত্রিত হচ্ছে নানা প্রতিবাদের ভাষা। যেমন-যুদ্ধাপরাধীর
বিচার চাই করতে হবে। অপরদিকে হেফাজতের ইসলামের কথিত নাস্তিক ব্লগার ও মুহম্মদ
(সা.)সহ কুরআনের অবমাননার জন্য তাদের চিত্রিত প্রতিবাদের ভাষা দেখা গেছে। এদের
প্রতিবাদের ভাষা –নাস্তিক
ব্লগারদের ফাঁসি চাই। তদ্রুপ বিশ্বেও এরকমই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও অনশন,
বিক্ষোভ সমাবেশ, মঞ্চে উত্তপ্ত ভাষণে ফুটে উঠে তীব্র প্রতিবাদের প্রখর অনুভূতি।
এমনকি এই অনুভূতি প্রকাশে কেউ কেউ জুতা,পাথর,ইট পর্যন্ত নিক্ষেপ পর্যন্ত করে
থাকেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন